মূল কন্টেন্টে যান

বাংলার সাথে

খেলাধুলা স্থানীয় খেলা

স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন টিকিয়ে রাখতে মাঠ ও সংগঠনের সংকট

স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন টিকিয়ে রাখতে মাঠ ও সংগঠনের সংকট

জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার তুলনায় স্থানীয় ক্রীড়া কাঠামো নিয়ে আলোচনা কম। অথচ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের মাঠ, ক্লাব ও সংগঠকদের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে গোটা ক্রীড়াব্যবস্থার ভিত্তি। গত দুই দশকে নগরায়ণ, খেলার মাঠ সংকোচন ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাব এই ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। ফলে গ্রামীণ ও মফস্বল পর্যায় থেকে প্রতিভা উঠে আসার পুরোনো ধারা ব্যাহত হচ্ছে।

মাঠের সংকট ও নগর পরিকল্পনা

শহরাঞ্চলে উন্মুক্ত মাঠ কমে আসা একটি কাঠামোগত সমস্যা। আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও সরকারি ভবন নির্মাণের চাপে অনেক পুরোনো খেলার মাঠ সংকুচিত হয়েছে বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেসব মাঠ টিকে আছে, সেগুলোর অনেকটিতে সারা বছর মেলা, সমাবেশ বা অস্থায়ী স্থাপনা থাকায় নিয়মিত অনুশীলন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

নগর পরিকল্পনায় প্রতি নির্দিষ্টসংখ্যক বাসিন্দার জন্য উন্মুক্ত ক্রীড়াস্থল সংরক্ষণের নীতি অনেক দেশে বাধ্যতামূলক। এ ধরনের নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাব সংস্কৃতিও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপনখবরের মাঝে বিজ্ঞাপন

সংগঠক ও অর্থায়নের বাস্তবতা

স্থানীয় পর্যায়ের বেশির ভাগ টুর্নামেন্ট চলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠকদের উদ্যোগে। তাঁরা চাঁদা তোলেন, পুরস্কার জোগাড় করেন, রেফারি ও আম্পায়ারের ব্যবস্থা করেন—প্রায়শই নিজের পকেট থেকে ব্যয় করে। কিন্তু এই মডেল টেকসই নয়, কারণ এটি ব্যক্তিনির্ভর; উদ্যোক্তা সরে গেলে আয়োজনও বন্ধ হয়ে যায়।

টেকসই বিকল্প হতে পারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া বরাদ্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ আয়োজন এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা। এসব উৎস একত্র হলে বছরজুড়ে ধারাবাহিক লিগ চালানো সম্ভব, যা এককালীন টুর্নামেন্টের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

ঐতিহ্যবাহী খেলার জায়গা

কাবাডি, হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, নৌকাবাইচ কিংবা লাঠিখেলার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। এগুলোর জন্য বড় অবকাঠামো লাগে না, তাই স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজন তুলনামূলক সহজ। স্কুল পর্যায়ে এসব খেলাকে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রাখলে একদিকে ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়, অন্যদিকে শিশুদের শারীরিক দক্ষতার ভিত্তি তৈরি হয়।

নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের বড় এজেন্ডা। নিরাপদ যাতায়াত, পৃথক পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা এবং নারী কোচ ও কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকলে অভিভাবকদের আস্থা বাড়ে। বহু এলাকায় দেখা গেছে, ন্যূনতম এই সুবিধাগুলো নিশ্চিত হলেই মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।

স্থানীয় ক্রীড়াকে কেবল বিনোদন হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সংহতি ও প্রতিভা উন্নয়নের বিনিয়োগ হিসেবে দেখা দরকার। মাঠ সংরক্ষণ, নিয়মিত লিগ এবং সংগঠকদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি—এই তিনটি বিষয়ে মনোযোগ দিলে মফস্বল থেকেই আবার নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদ উঠে আসতে পারে। অন্যথায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভার সরবরাহ সংকট আরও গভীর হবে।

admin

লেখক সম্পর্কে

সম্পর্কিত খবর

লাইভ স্কোর প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে খেলা অনুসরণের ধরন
খেলাধুলা লাইভ স্কোর

লাইভ স্কোর প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে খেলা অনুসরণের ধরন

  • ১৭ জুলাই, ২০২৬
এক সময় খেলার খবর জানার জন্য রেডিওর ধারাভাষ্য বা পরদিনের পত্রিকার অপেক্ষা করতে হতো। আজ মুঠোফোনের পর্দায় প্রতিটি বল, প্রতিটি
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ছোট দেশগুলোর উত্থানের পেছনের কাঠামো
আন্তর্জাতিক খেলা খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ছোট দেশগুলোর উত্থানের পেছনের কাঠামো

  • ১৭ জুলাই, ২০২৬
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। এক সময় যেসব প্রতিযোগিতায় হাতেগোনা কয়েকটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য